আমরা কিন্তু সফল হচ্ছি…
বাংলাদেশে ব্র্যা-ক বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৫ সালে এলজিবিটি সেন্টার হিসেবে আত্নপ্রকাশ করে DFID এর ফান্ডিং এ রিয়েলাইজিং রাইটস প্রজেক্টের মাধ্যমে। তখন মেইনস্ট্রিমে বিশ্বব্যাপী সবেমাত্র এলজিবিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০০৭ সালে ব্র্যাক এনজিও ইমেজ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সম্মেলন করে দেশের আইন বিরুদ্ধ পায়ু-সংগম অধিকারের জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দাবী করে প্রকাশ্যে। হ্যা, বিস্ময়কর হলেও এটা সত্য। প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ঢাকা ট্রিবিউন অফিশিয়াল মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ব্রাক, আইসিডিডিআরবি, বন্ধু সোস্যাল এর পাশে দাঁড়ায়। এরপর থেকে পুরোদমে পলিসি লেভেলে ব্রাক, বন্ধু, আইসিডিডিআরবি এডভোকেসি শুরু করে। সরকারী বিভিন্ন পলিসিতে ঢুকে যায়, বিভিন্ন ফর্মে সেক্স শব্দ বাদ দিয়ে জেন্ডার যুক্ত করে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ট্রেইনিং এ এলজি ইস্যু অন্তর্ভুক্ত করে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিসিএস ট্রেইনিং একাডেমিগুলোতে। ২০০০+ আইনজীবীদের ট্রেইনিং দিয়ে গড়ে তোলা হয়। কয়েকশত সাংবাদিকও ট্রেইন্ড করা হয়। ২০১৫ সাল থেকে পাঠ্যপুস্তকে যৌন শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে রীতিমতো স্কুল পর্যায়ে এক্সপেরিমেন্ট হয়। অবশেষে শরীফার গল্প পাঠ্যপুস্তকে, এলজিবিটি সুরক্ষা আইনের ড্রাফট প্রস্তুত। ২০২৪ সালে তা সংসদে পাশ করার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি ছিলো।
আমরা সচেতন হওয়া শুরু করেছি প্রায় তাদের কাজ শুরুর ১৮-২০ বছর পর।
মজার বিষয় হচ্ছে আবু সাঈদের রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথম তাদের ক্যাম্পাসে আয়োজিত ব্রাকের এলজিবিটি এজেন্ডার সমতন্ত্র প্রোগ্রামের প্রতিবাদ করে। রোকেয়ার শিক্ষার্থীরা আমার সাথে যোগাযোগ করলে তাদের পরামর্শ দিয়েছিলাম নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভিসিকে লিখিত জানাতে। পরে ভিসি সাহেব বাধ্য হয়ে সেই অনুষ্ঠানে সমতন্ত্রের এজেন্ডা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় গেইম চেঞ্জার হিসেবে আবির্ভূত হলো। মাত্র কয়েকজন শিক্ষার্থী জুম্মার সালাতের পর প্লেকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। তারাও ভিসিকে লিখিত প্রতিবাদ করে। নর্থ সাউথে নারী দিবসে পুরুষের নারী দাবী নিয়ে জাতীয় আলোচনা শুরু হয়। সে কি প্রতাপ তাদের। ইউজিসি গোলামিত্ব বরণ করে নর্থ সাউথকে চাপে ফেলে। ৭১সহ প্রায় চ্যানেল বাংলাদেশের মত দেশে প্রকাশ্যে পায়ু সংগম অধিকার নিয়ে মাঠে নামে।
এরপর আসিফ মাহতাব এর বিস্ময়কর আবির্ভাব। একটা পাতা ছেঁড়ার ঘটনা আমাদের ১০ বছরের কাজকে এক মিনিটেই আল্লাহ এগিয়ে দেন। ওকে তখনো চিনতাম না। এক ছাত্রের পীড়াপীড়িতে আসিফের সাথে যোগাযোগ হয়। বইয়ের পাতা ছেড়ার আগ মুহুর্তেও কিছুটা কনফিউজড ছিলো, স্যার ছিড়বো? আল্লাহর নামে করে ফেলো…জবাবে বলেছিলাম। সেই শিক্ষক ফোরামের অনুষ্ঠানে দুজন পাশাপাশি বসেছিলাম। আমার বরাদ্দকৃত ১৫ মিনিট আসিফকে দিয়েছিলাম বক্তব্য দেয়ার সময়।
এলজিবিটি বিষয়ে তেমন তথ্য ছিলো না দেশে। এখন অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে। টিভি চ্যানেলগুলো এখনো পায়ুসংগমবাদীদের পক্ষে থাকলেও সচেতনতা ভালো এগিয়েছে।গতকাল ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল এবং জাগো ফাউন্ডেশন এর প্রোগ্রাম বাতিল করতে বাধ্য হয়। ডেফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা একটা বিষয়ে গতকাল প্রতিবাদ করেছে।
একটা ক্যাম্পাসের মাত্র কয়েকজন শিক্ষার্থী-শিক্ষক নিয়মতান্ত্রিকভাবে সক্রিয় হলে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়। আমরা সচেতন হলে এই ব-দ্বীপের মুসলিম আইডেন্টিটি তারা ছিনিয়ে নিতে পারবে না, ইনশাল্লাহ।






