রংধনু নিয়ে দুটি কথা

আমরা কি রংধনু বিদ্বেষী?
আকাশের রংধনুও কি সমকামী?
৬ রং না হলে কি সেটা সমকামিতার সিম্বল হয় না?

 
এক.
 
কোন সিম্বলের বিরোধিতা করা মানে মূল বস্তুটির বিদ্বেষী হওয়া নয়।
 
১.১
পেঁচা সিম্বলটি ভিন্ন একটি ধর্ম বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত।
আমরা এই সিম্বলের বিরোধী মানে কি আমরা পেঁচা বিদ্বেষী?
না,
পেঁচা থাকুক গাছে, পেঁচা থাকুক বনে।
কিন্তু পেঁচার কোন সিম্বল আমরা ধারণ করবো না।
 
১.২
“+” চিহ্নটি যেমন একটি গাণিতিক চিহ্ন, তেমনি এটি ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথেও সম্পর্কিত। ধর্মীয় সিম্বল হিসেবে আমরা “+” চিহ্ন ধারণের বিরোধি। এর মানে কি আমরা গাণিতিক “+” চিহ্ন বিদ্বেষী?
না,
গণিতে, বইতে, খাতায় “+” আছে, থাকবে, থাকুক। এতে কোন সমস্যা নেই।
কিন্তু
এই চিহ্নকে আমরা সিম্বল হিসেবে ধারণ করবো না।
পাঞ্জাবির গায়েও না, মসজিদের মিনারেও না, বসত বাড়ির গেইটেও না, কোথাও না।
 
১.৩
রংধনু সিম্বলটি এখন সমকামিতার সমর্থক হয়ে উঠেছে। ফলে সমকামিতা বিরোধীদের কাছে রংধনু সিম্বলটি ঘৃণার বস্তুতে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু
এর মানে কি আমরা আকাশের রংধনু বিদ্বেষী?
না,
রংধনু আকাশে থাকুক। কিন্তু রংধনু সিম্বলটিকে আমরা ধারণ করবো না।
 
দুই.
 
কোন সিম্বল ধারণের জন্য সিম্বলটির আকার-আকৃতির সাথে ১০০% সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া জরুরী নয়।
 
২.১
রেডক্রস সোসাইটি থাকতে মুসলিমদের জন্য পৃথকভাবে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি কেন বানাতে হয়েছিল? কারণ রেডক্রসের সিম্বল হচ্ছে (+).
এই (+) চিহ্ন কিন্তু ক্রুশ () চিহ্নের সাথে ১০০% সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। তারপরও (+) চিহ্নটিতেও যেহেতু ক্রুশের অবয়ব অনেকাংশে ফুটে ওঠে, তাই এটাকেও ক্রুশের সিম্বল ধরা হয়।
ফলে মুসলিমরা ক্রুশ চিহ্নের সাথে সাথে ‘+’ চিহ্নটিকেও ধারণ করা থেকে বিরত থাকেন।
 
২.২
সমকামিতার অনেকগুলো ফ্ল্যাগ আছে। ৬ রংয়ের ফ্ল্যাগটিই অধিক পরিচিত হলেও সাত ও আট রংয়ের ফ্ল্যাগও কিন্তু রয়েছে।
যেই সিম্বলে রংধনুর রংগুলো পাশাপাশি থাকে, সংখ্যা যাই হোক সেটা যদি রংধনুর ইম্প্রেশন দেয় সেটাই রংধনু সিম্বল হিসেবে গণ্য হবে।
 
শেষকথাঃ
 
আকাশের রংধনু আল্লাহর একটি অপরূপ সৃষ্টি। এর সাথে আমাদের কোন বিদ্বেষ নেই। আমাদের বিরোধ রংধনু সিম্বলের সাথে কারণ এটি সমকামিতার সিম্বল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়ে গেছে। 
 
আরো পড়ুনঃ
 

প্রাসঙ্গিক লেখাসমূহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *