সিলেটের ওলামায়ে কেরামের সাথে মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৈঠক

সিলেটের ওলামায়ে কেরামের সাথে মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৈঠক

(সিলেটের স্বনামধন্য আলেম মুফতি জিয়াউর রহমানের ফেসবুক পোস্ট থেকে আর্কাইভকৃত)

বুধবার (১৩ আগস্ট ২০২৫) আমরা কয়েকজন সিনিয়র-জুনিয়র মিলে গিয়েছিলাম মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে হযরত মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ হাফি.র নেতৃত্বে। যেখানকার ট্রান্স-জেন্ডার ছাত্র কর্তৃক ড. সরওয়ার স্যার ও আসিফ মাহতাবকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। যে হুমকির বিষয়টি নিয়ে সারা দেশ প্রতিবাদে তোলপাড়।

মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যান সাহেবের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ কথা হয়েছে। তারা আমাদেরকে যে বিষয়গুলো জানানোর চেষ্টা করেছেন:

১. ভার্সিটি থেকে অপরাধীকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ আলহামদুলিল্লাহ!
২. তারা তার অপরাধের ব্যাপারে প্রশাসনকে অবগত করেছেন৷
৩. এই ছেলেটির ভর্তি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার ব্যাপারে দায় সম্পূর্ণ সাবেক ভিসির উপর দিয়েছেন।
৪. তারা ব্যক্তিগতভাবে প্র্যাক্টিসিং মুসলিম। নিজের দ্বীন ও ঈমানের ব্যাপারে আন্তরিক। এমনকি বর্তমান চেয়ারম্যান বাচ্চাদের ভালো পরিবেশে বড় করার জন্য ইংল্যান্ড থেকে দেশে শিফট করেছেন৷ যা শুনে আমরা অত্যন্ত খুশি হয়েছি।
৫. এই ইস্যু মোকাবেলায় তারা আমাদের সহযোগিতা চেয়েছেন।

আমরা যে বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি-
১. তাকে বহিষ্কার করার জন্য ভার্সিটি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। তার অপরাধের কারণে তাকে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।
২. শুরুতেই দাওয়াহর অংশ হিসেবে অধমের লিখিত ‘ট্রান্সজেন্ডারবাদ: ভয়াবহতা ও সচেতনতা’ নামক বইটি মুহতারাম শাহ মমশাদ সাহেব চেয়ারম্যান সাহেবের হাতে তুলে দেন।
৩. ভার্সিটি এবং পুরো সিলেটের ইমেজ যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছি।
৪. হিজড়া এবং ট্রান্স-জেন্ডার যে সম্পূর্ণ আলাদা। হিজড়া আল্লাহ প্রদত্ত লিঙ্গ প্রতিবন্ধী ও ট্রান্স-জেন্ডার কৃত্রিম ও আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন করার মাধ্যমে হয়ে থাকে। তারা সমকামি হয়ে থাকে, তা বলেছি।
৫. কেউ যদি ট্রান্স জেন্ডার হওয়াকে বৈধ কিংবা নিজের অধিকার মনে করে, তাহলে সে ঈমানহারা হয়ে যাবে, সেই ফাতওয়াও ক্লিয়ার করেছি।
৬. আমরা ক্রমান্বয়ে সিলেটের সকল ভার্সিটিতে দাওয়াতি মিশন নিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ। এমন নোংরামি যাতে কেউ করতে সাহস না পায়, তা নিশ্চিত করা সকলের ঈমানি দায়িত্ব।

একটি বিষয় ক্লিয়ার করার প্রয়োজন মনে করছি, আমরা মেট্রো কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা ও সহযোগিতামূলক ব্যবহারে সন্তুষ্ট, কিন্তু আশ্বস্ত নই। আশ্বস্ত হওয়া সময়সাপেক্ষ বিষয়।

প্রাসঙ্গিক লেখাসমূহ

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *