সংস্কার কমিশনসমূহের প্রতিবেদনে এলজিবিটি অন্তর্ভুক্তির পাঁয়তারা

সংস্কার কমিশনসমূহের প্রতিবেদনে এলজিবিটি অন্তর্ভুক্তির পাঁয়তারা

অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে সংবিধানে ও বিভিন্ন নীতিমালায় এলজিবিটি অন্তর্ভুক্তিকরণের পাঁয়তারা পরিলক্ষিত হচ্ছে। নিচে এই অপচেষ্টাগুলো তুলে ধরা হলো।

. সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন

সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদে বৈষম্যের অননুমোদিত কারণগুলোর তালিকায় ‘নারীপুরুষভেদ’এর স্থলে অসংজ্ঞায়িত ‘লিঙ্গ’ শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে। এই ‘লিঙ্গ’ শব্দটি অসংজ্ঞায়িত থাকার সুযোগে একে ‘লিঙ্গ পরিচয়’ বা ‘জেন্ডার আইডেন্টিটি’ হিসাবে ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে এলজিবিটিকিউ+ তথা সমকামী অধিকারকে সংবিধানিক বৈধতা দানের পথ উন্মুক্ত হবে।

চিত্র ১.১ সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন, ১ম খণ্ড, পৃ: ৪৮

চিত্র ১.২ সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন, ১ম খণ্ড, পৃ: ৭৭

২. জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে ‘বৈচিত্র ও অন্তর্ভুক্তিকরণ’ (Diversity and Inclusion)বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। এখানে বৈচিত্র্য অসংজ্ঞায়িত থাকায় লিঙ্গ বৈচিত্র্যের নামে এলজিবিটিকিউ+ অন্তর্ভুক্তিকরণের সম্ভাবনা রয়েছে। আবার ‘পিছিয়ে পড়া সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী’ কারা এটা সুনির্দিষ্ট না করায় এখানেও এলজিবিটিকিউ+ অন্তর্ভুক্তিকরণের সম্ভাবনা রয়েছে, কেননা এই পরিভাষাগুলো এলজিবিটিকিউ+দের জন্য সচরাচর ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

চিত্র ২.১ জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন, পৃষ্ঠা ৩৫

. গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদেনে গণমাধ্যমের সব পর্যায়ে (‘নারী-পুরুষ’ বা ‘নারী-পুরুষ-হিজড়া’ এর পরিবর্তে) ‘সব জেন্ডার’-এর অংগ্রহণ নিশ্চিত করার সুশারিশ করা হয়েছে। এভাবে ট্রান্সজেন্ডার তথা এলজিবিটিকিউ+ এর অন্তর্ভুক্তির পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে।

চিত্র ৩.১ গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন, পৃঃ ১২১

চিত্র ৩.২ গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন, পৃঃ ১৫৬,১৫৭

. পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনঃ

৪.১

পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে ‘নারী ও শিশুবান্ধব পুলিশিং’ এর পরিবর্তে ‘জেন্ডার ও শিশুবান্ধব পুলিশিং’ এর সুপারিশ করা হয়েছে। এ‌ই প্রতিবেদনে লিঙ্গ (Sex) ও জেন্ডার (Gender) সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। কোথাও লিঙ্গ সংবেদনশীলতা কোথাও জেন্ডার সংবেদনশীলতার কথা বলা হয়েছে। ‘জেন্ডার সমতা’ এবং ‘জেন্ডার সংবেদনশীলতা’র নামে ভবিষ্যতে এলজিবিটিকিউ+ এর অন্তর্ভুক্তির পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

চিত্র ৪.১.১ পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন, পৃষ্ঠা ৯২

চিত্র ৪.১.২ পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন, পৃষ্ঠা ৯৪

৪.২

১০ নম্বর সংস্কার প্রস্তাবে ‘ক্ষেত্র’ হিসেবে “নারী, শিশু ও জেন্ডার সচেতনতা” উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে ‘নারী’ উল্লেখ থাকার পরও ‘জেন্ডার’ শব্দটিকে আলাদাভাবে যুক্ত করা এলজিবিটিকিউ+ এর অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিকে আরো সুস্পষ্ট করে তুলেছে।

চিত্র ৪.২ পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন, পৃষ্ঠা ১০৭

. নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন

৫.১

নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন সংবিধানের ২৮ ও ২৯ নং অনুচ্ছেদে ‘নারীপুরুষভেদ’  এর পরিবর্তে ‘লিঙ্গ পরিচয়’ (যার ইংরেজি হচ্ছে Gender Identity) অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে, যা প্রকৃতপক্ষে সংবিধানে এলজিবিটিকিউ+ অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ বলেই প্রতীয়মান হয়।

চিত্র ৫.১.১ নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন, পৃষ্ঠা:৩৩

চিত্রঃ নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন, পৃষ্ঠা:৩৪

৫.২

নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন নারীর অন্তর্ভুক্তির চেয়ে জেন্ডারের অন্তর্ভুক্তির প্রতিই বেশি যত্নশীল বলে পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রতিবেদনে অন্ততঃ ৬০+ বার জেন্ডার শব্দটি এসেছে। ‘নারীর প্রতি সহিংসতা’র চেয়ে ‘জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা’ নিয়ে তাদের উদ্বেগ বেশি বলে মনে হয়েছে। যার মাধ্যমে নারীর আড়ালে এলজিবিটি-র অন্তর্ভুক্তি সম্ভব এমন কোন সুপারিশ বাদ রাখা হয়নি, যেমন: ‘জেন্ডার বিশেষজ্ঞ’, ‘জেন্ডার সংবেদনশীল কর্মক্ষেত্র’, ‘জেন্ডার-সংবেদনশীল-প্রশিক্ষণ’ ইত্যাদি।

চিত্র ৫.২.১ নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন, পৃষ্ঠা:১০০

চিত্র ৫.২.২ নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন, পৃষ্ঠা: ১০২

চিত্র ৫.২.৩ নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন, পৃষ্ঠা: ১৩৪

চিত্র ৫.২.৪ নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন, পৃষ্ঠা: ১৩৪

৫.৩

কোন কোন ক্ষেত্রে ‘নারী-পুরুষ’ এর পরিবর্তে ‘সকল লিঙ্গ’ পরিভাষার ব্যবহার এলজিবিটি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কমিশনের সদস্যদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাকেই স্পষ্টতর করে তুলেছে।

চিত্র ৫.৩ নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন, পৃষ্ঠা: ১৬২

প্রাসঙ্গিক লেখাসমূহ

3 Comments

  1. জাযাকাল্লাহু খাইরান ওয়া আহসানুল জাযা। উম্মতের সামনে সত্য উম্মোচিত করার জন্য আবারও জাযাকাল্লাহ। আল্লাহ আপনাদের মেহনতকে কবুল করুন। আমিন।

  2. গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা , বারকুমুল্লাহ ।

    এলজি ফেতনা থেকে আল্লাহ তায়ালা এ জাতিকে হেফাজত করুন , যারা এ ফেতনা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে আল্লাহ তাদের কপালে হেদায়েত না থাকলে পুরপুরি ধ্বংস করে দিন ।

  3. অভিশপ্ত ড.ইউনুস বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ভয়ানক অভিশাপ ।
    অভিশপ্ত বলার কারণ হলো: এই সুদখোর আল্লাহ্ ও তাঁর প্রীয় রাসূলের সাথে সুদি লেনদেনের মাধ্যমে যুদ্ধে লিপ্ত। আল্লাহ্ ও তাঁর প্রীয় রাসূলের এই শত্রু সমগ্র দ্বীনদরদী মুসলমানদেরকে সুদের মধ্যে ডুবিয়ে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *