জনাব তারেক জিয়া,
আপনার ঘোষিত ৩১ দফার রেইনবো নেশন নিয়ে আমাদের আশংকার কথা আমরা অনেকদিন থেকেই বলে আসছিলাম। যদিও বিএনপি-র পক্ষ থেকে পরিষ্কার কোন বার্তা পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু সাম্প্রতিককালে আপনার একটি পোস্ট থেকে ধারণা করার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে যে আপনারা আসলেই সমকামবান্ধব অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন।
সম্প্রতি আপনি আপনার এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেনঃ
এবারের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের মূল প্রতিপাদ্য – ‘এ্যাচিভিং জেন্ডার ইকুইলিটি একশন বাই একশন’ অর্থাৎ পদক্ষেপের পর পদক্ষেপ গ্রহণ করে লিঙ্গ সমতা অর্জন করতে হবে। গণতন্ত্রে নারী-পুরুষ বা অন্য যেকোন লিঙ্গের মানুষ লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের সমান সুযোগ ও মর্যাদা লাভ করে। এটি একটি মূল মানবাধিকার। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র-সমাজে কেউ বঞ্চনার শিকার হলে জোরালো প্রতিবাদের পরিবেশ থাকে, সে কারণে নারী-পুরুষ বা অন্য যেকোন লিঙ্গের ভেদরেখা তীব্র হতে পারে না এবং ক্রমান্বয়ে সমানাধিকার নিশ্চিত হওয়ার পথে অগ্রসর হয়।
“নারী-পুরুষ বা অন্য যে কোন লিঙ্গের মানুষ” এই বাক্যাংশ প্রমাণ করে যে আপনি নারী-পুরুষের বাইরে আরো যত লিঙ্গের দাবী করা হয়ে থাকে সেসব লিঙ্গের “যে কোন লিঙ্গের” জন্য সমান সুযোগ ও মর্যাদা প্রদান করাকে মূল মানবাধিকার বলে মনে করেন।
বর্তমানে বহুল আলোচিত একটি লিঙ্গ পরিচয় হচ্ছে “ট্রান্সজেন্ডার“। আপনি তো তাহলে নারী-পুরুষের মতো ট্রান্সজেন্ডারদেরও সমান সুযোগ ও মর্যাদা দিতে চান এবং সেটাকে মূল মানবাধিকার মনে করে থাকেন। এই ধরণের বিশ্বাস পোষণ করা ঈমানের জন্য কতটা ধ্বংসাত্মক সেটা কি আপনি কোন আলেম থেকে জেনে নেবার প্রয়োজন বোধ করেননি?
আশা করি ট্রান্সজেন্ডারকে হিজড়ার সাথে গুলিয়ে ফেলে আমাদের বোকা বানাতে চেষ্টা করবেন না। আমরা জানি ট্রান্সজেন্ডার আর হিজড়া এক না। হিজড়া হচ্ছে জন্মগত লিঙ্গ প্রতিবন্ধী। ইসলামী শরীয়তে হিজড়া কোন আলাদা লিঙ্গ পরিচয় নয়। বরং বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও আচরণ বিবেচনা করে একজন হিজড়াকে ‘নারী’ বা ‘পুরুষ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
নারী হিসবে চিহ্নিত একজন হিজড়া, একজন নারীর সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন এবং নারীর ওপর আরোপিত সকল বিধিবিধিআন তার ওপরে আরোপিত হয়।
একইভাবে পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত একজন হিজড়া, একজন পুরুষের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন এবং পুরুষের সকল বিধিবিধান তার ওপরে আরোপিত হয়।
অন্যদিকে একজন ট্রান্সজেন্ডারের শারীরিক বা লিঙ্গীয় কোন প্রতিবন্ধিতা নেই। এটা তার মানসিক বিষয়। ট্রান্সজেন্ডারবাদ অনুসারে,
- যদি কোনো জন্মগত পুরুষ নিজেকে নারী মনে করে তবে তাকে ‘ট্রান্সজেন্ডার নারী’ বা ‘ট্রান্স নারী’ বলা হবে এবং সে নারীর সকল সুবিধা ভোগ করবে।
- একইভাবে যদি কোনো জন্মগত নারী নিজেকে পুরুষ মনে করে তবে তাকে ‘ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ’ বা ‘ট্রান্স পুরুষ’ বলা হবে এবং সে পুরুষের সকল সুবিধা ভোগ করবে।
কাজেই ট্রান্সজেন্ডারকে লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেবার পরিণতি হচ্ছেঃ
নিজেকে ‘ট্রান্সজেন্ডার নারী’ দাবী করা একজন জন্মগত পুরুষ
- পরিবহনে নারী সিটে নারীদের পাশে বসতে পারবে।
- মেয়েদের কলেজ-ভার্সিটিতে ভর্তি হতে পারবে।
- ছাত্রীহল বা মহিলা হোস্টেলে নারীদের পাশের সিটে একসাথে থাকতে পারবে।
- নারীদের টয়লেট ব্যবহার করতে পারবে।
- নারীদের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে।
- নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত কোটা ভোগ করতে পারবে।
- মসজিদে নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত অংশে নারীদের গা ঘেঁষে নামাযে দাঁড়াতে পারবে।
- অন্য পুরুষকে বিয়ে করে সমকামিতা চরিতার্থ করতে পারবে।
অন্যদিকে নিজেকে “ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ” দাবী করা একজন জন্মগত নারী
- সম্পত্তিতে পুরুষের সমান অংশ দাবী করতে পারবে।
- ছাত্র হল বা হোস্টেলে পুরুষদের সাথে থাকতে পারবে।
- পুরুষদের টয়লেট ব্যবহার করতে পারবে।
- মসজিদে পুরুষদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াতে পারবে।
- মসজিদের ইমামতিও করতে চাইতে পারবে।
- মাহরাম ছাড়া হজ্জে যেতে পারবে।
- হজ্জে দুই টুকরো কাপড় দিয়ে ইহরাম বাঁধতে পারবে।
- অন্য নারীকে বিয়ে করে সমকামিতা চরিতার্থ করতে পারবে।
একজন ট্রান্সজেন্ডার সাধারণতঃ ৩টি হারামে লিপ্ত হয়ে থাকেঃ
১. সে পুরুষ হয়ে নারীর বেশভূষা ও সাজসজ্জা ধারণ করে থাকে বা নারী হয়ে পুরুষের বেশভূষা ও সাজসজ্জা ধারণ করে থাকে যা হারাম।
২. কোন কোন ট্রান্সজেন্ডার লিঙ্গ রূপান্তরের উদ্দেশ্যে অপারেশন বা হরমোন থেরাপির আশ্রয় নিয়ে থাকে যা আল্লাহর সৃষ্টিতে জঘন্য বিকৃতি ঘটানোর শামিল এবং হারাম। উল্লেখ্য অপারেশন ও হরমোন থেরাপির মাধ্যমে কখনোই পরিপূর্ণ লিঙ্গ রূপান্তর সম্ভব নয়।
৩. নারী-সাজা পুরুষ অন্য নারীকে বিয়ে করে এবং পুরুষ-সাজা নারী অন্য নারীকে বিয়ে করে সমকামিতায় লিপ্ত হয়ে থাকে, যা সুস্পষ্ট হারাম।
যে ট্রান্সজেন্ডার এই হারামগুলোকে হালাল মনে করে এবং এগুলোকে নিজের অধিকার মনে করে সে ইসলামের গন্ডি থেকে বের হয়ে যাবে।
ট্রান্সজেন্ডারবাদে আল্লাহর দেয়া শরীয়ত ও কুরআন-সুন্নাহর অসংখ্য বিধানের স্পষ্ট বিরুদ্ধাচরণ রয়েছে। এর মাধ্যমে নামায, হজ্জ, বিয়ে, তালাক, পর্দা, সতর, সাক্ষ্যপ্রদান, ইমামতি, মীরাসসহ নারী-পুরুষ সংক্রান্ত কুরআন-সুন্নাহর বহু বিধান সরাসরি লঙ্ঘিত হয়।
সেজন্য উলামায়ে কেরাম ট্রান্সজেন্ডারবাদকে একটি কুফরী মতবাদ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। একে হারাম, ইসলামী শরীয়ত ও কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী আখ্যা দিয়েছে এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম নিচে দেওয়া হলো:
১. আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর ‘জাতীয় মুফতি বোর্ড’
২. ওআইসি-র প্রতিষ্ঠান জেদ্দা ফিকহ একাডেমি, সিদ্ধান্ত ২৫১ (১৩/২৫)
৩. রাবেতাতুল আলামিল ইসলামীর ফিকহ একাডেমি, সিদ্ধান্ত ক্বারারাতুল মাজমা আলফিকহি আল ইসলামী, পৃষ্ঠা : ২৬২
৪. সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদ ‘হাইআতু কিবারিল উলামা’-র সিদ্ধান্ত ১৭৬
৫. সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় ফতোয়া বোর্ড ‘আল লাজনাতুদ দায়িমাহ’র ফতোয়া ২৫/৪৭।
আমরা আপনার নিকট থেকে সুস্পষ্টভাবে জানতে চাইঃ
১. নারী-পুরুষের বাইরে আর কোন্ কোন্ লিঙ্গকে আপনি এবং আপনার দল স্বীকৃতি প্রদান করেন?
২. এলজিবিটি ও ট্রান্সজেন্ডারের আইনী স্বীকৃতি প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান কী?
রেফারেন্সঃ






